রাজনৈতিক বিবেচনা নয়, সেনাবাহিনীতে পদোন্নতিতে মেধার গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজনৈতিক বিবেচনা নয়, সেনাবাহিনীতে পদোন্নতিতে মেধার গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬ এ ৩:৩৪ PM

সেনাবাহিনীতে পদোন্নতিতে রাজনৈতিক নয়, মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা সেনানিবাসে ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সেনাবাহিনীতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা বা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ গ্রহণযোগ্য নয়। একটি আধুনিক ও পেশাদার বাহিনী গঠনে মেধা, সততা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলী এবং পেশাগত যোগ্যতাই পদোন্নতির একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর পুনর্গঠনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। পাশাপাশি তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ, পার্বত্য অঞ্চলে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী সেনা সদস্য এবং সকল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকার জন্য সেনাপ্রধানসহ বাহিনীর সকলকে ধন্যবাদ দেন তিনি।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস)। সেনাপ্রধান তাঁর উপস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী ফটোসেশনে অংশ নেন এবং সেনাসদরের পরিদর্শক বইয়ে তাঁর মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন।

শেয়ার করুন:

দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে ভ্রমণ ভিসায় ভারত-বাংলাদেশ যাত্রী পারাপার শুরু হলো।

দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে ভ্রমণ ভিসায় ভারত-বাংলাদেশ যাত্রী পারাপার শুরু হলো।
ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬ এ ৩:১৫ PM

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে আজ থেকে ভ্রমণ (ট্যুরিস্ট) ভিসায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাধারণ যাত্রী পারাপার শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের পর্যটন, সংস্কৃতি এবং সাধারণ মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটলো।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে প্রথম একজন বাংলাদেশি যাত্রী ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। ইমিগ্রেশন ও বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আখাউড়া স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ জানায়, দুই বছর পর ভ্রমণ ভিসা নিয়ে পার হওয়া প্রথম বাংলাদেশি যাত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ফুলবাড়িয়ার বাসিন্দা। তিনি গত ২৮ জুন ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন এবং গতকাল ৮ জুলাই ৬ মাস মেয়াদি মাল্টিপল ভিসা হাতে পান।

আজ সকাল থেকেই আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে দুই দেশের যাত্রীদের আনাগোনা বাড়তে দেখা গেছে। ইমিগ্রেশন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুর রহিম জানান,

"বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রথম ভ্রমণ ভিসার যাত্রী ভারতে গেছেন। ভ্রমণ ভিসা পুরোদমে চালু হওয়ায় আগামী দিনগুলোতে যাত্রী পারাপার এবং ব্যস্ততা আরও অনেক বাড়বে।"

২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশে সব ধরনের ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল ভারত। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসা (মেডিকেল) ও ব্যবসায়িক (বিজনেস) ভিসা সীমিত পরিসরে চালু করা হলেও সাধারণ পর্যটকদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা দীর্ঘ দুই বছর ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।

সম্প্রতি ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুনরায় ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দেন। সেই অনুযায়ী, গত ২৮ জুন থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনাসহ দেশের প্রধান ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলোতে (IVAC) একযোগে ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। গতকাল ৮ জুলাই থেকে আবেদনকারীরা হাতে ভিসা পেতে শুরু করেন এবং আজ ৯ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।

শেয়ার করুন:

রেকর্ড বৃষ্টিতে ভাসছে চট্টগ্রাম: ৩ জেলায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, ট্রেন চলাচল বিপর্যস্ত

রেকর্ড বৃষ্টিতে ভাসছে চট্টগ্রাম: ৩ জেলায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, ট্রেন চলাচল বিপর্যস্ত
চট্টগ্রামে বৃষ্টি রেকর্ড , ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬ এ ১:০১ AM

টানা তিন দিন ধরে চলা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরী। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—সবই এখন পানির নিচে।নজিরবিহীন এই জলাবদ্ধতায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পুরো নগরী, যার জেরে চট্টগ্রামসহ তিন জেলার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রবল সক্রিয়তায় চট্টগ্রামে স্মরণকালের রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে। গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া ও ভূপ্রাকৃতিক কেন্দ্র চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান জানান, মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টির তীব্রতা অনেক বেড়েছে। নিম্নচাপটি ভারতের ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার দিকে সরে গেলেও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে আগামী অন্তত এক সপ্তাহ এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।ভারী বৃষ্টিতে নগরের আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, বাকলিয়া, কাপাসগোলা, চান্দগাঁও, হালিশহর ও পতেঙ্গাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বহু ঘরবাড়ি ও দোকানে পানি ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র ও গৃহস্থালির মালামালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহদ্দারহাটের বাসিন্দা আহমেদ রেজা জানান, সকালে হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ায় তড়িঘড়ি করে আসবাবপত্র সরাতে হয়েছে, বৃষ্টির কারণে ঘর থেকেও বের হওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে অতিবর্ষণের জেরে নগরীতে দেয়াল ধসে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও চারজন। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে গাছ ভেঙে পড়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে এবং গ্রামীণ উপজেলাগুলোতে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।নজিরবিহীন এই জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে রেল যোগাযোগেও। নগরের মুরাদপুর এলাকায় রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ১ হাজার যাত্রী নিয়ে আটকে পড়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’। অন্যদিকে রেললাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি দোহাজারী স্টেশনে আটকা পড়ে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার জানান, রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় জান আলী হাট ও লোহাগাড়ায় ট্রেন আটকে যায়। পরবর্তীতে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে পর্যটক এক্সপ্রেসের পেছনে আরেকটি ইঞ্জিন লাগিয়ে ট্রেনটিকে চট্টগ্রামে ফিরিয়ে আনা হয়। রেল চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।

ভারী বর্ষণ ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন তিন জেলার আজকের (বুধবার, ৮ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো—চট্টগ্রাম, রাঙামাটি এবং কক্সবাজার। স্থগিত হওয়া এই পরীক্ষাগুলোর নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

তবে চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে থাকা অন্য দুই জেলা—বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে পরীক্ষা যথারীতি চলবে। পাশাপাশি দেশের বাকি সব শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাও পূর্বঘোষিত রুটিন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

শেয়ার করুন: