Bartalive24
সর্বশেষবাংলাদেশরাজনীতিঅর্থনীতিবিশ্বখেলাপ্রযুক্তিবিনোদনস্বাস্থ্যলাইফস্টাইলচাকরিমতামত

দিবসের নতুন তালিকা: থাকল ৫ আগস্ট ও ১৬ জুলাই, ফিরল না ৭ মার্চ ও ১৫ আগস্ট

দিবসের নতুন তালিকা: থাকল ৫ আগস্ট ও ১৬ জুলাই, ফিরল না ৭ মার্চ ও ১৫ আগস্ট
ছবি সংগৃহীত
জাতীয় ডেস্কবৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬ এ ১:৫৯ PM

বাংলাদেশে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের তালিকায় নতুন করে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারের সাম্প্রতিক পরিপত্রে মোট ৮৯টি দিবস রেখে নতুন তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে আগে বাতিল হওয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিবস—বিশেষ করে ৭ মার্চ ও ১৫ আগস্ট—পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

সরকারি নির্দেশনায় দিবসগুলোকে তিনটি আলাদা শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণিতে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব দিয়ে পালনের জন্য ১৭টি দিবস রাখা হয়েছে। ‘খ’ শ্রেণিতে রয়েছে ৩৭টি দিবস, যেগুলো বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে পালন করা যাবে। আর ‘গ’ শ্রেণিতে সীমিত পরিসরে পালনের জন্য ৩৫টি দিবস রাখা হয়েছে।

নতুন তালিকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো ৫ আগস্টকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা। একই সঙ্গে ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। এই দুটি দিন সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলির সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় এগুলোকে দিবসের তালিকায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে আটটি দিবস বাতিল করা হয়েছিল, সেগুলোর কোনোটি নতুন তালিকায় পুনর্বহাল করা হয়নি। ফলে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ এবং ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবস আগের মতো সরকারি দিবসের তালিকায় ফিরে আসেনি।

এ ছাড়া নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৭ অক্টোবর লালন সাঁই তিরোধান দিবসকে জাতীয় পর্যায়ে পালনের জন্য ‘ক’ শ্রেণির দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু দিবসের তালিকায় ছোটখাটো সংশোধনও করা হয়েছে।

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘ক’ শ্রেণির দিবসগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হবে। ‘খ’ শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলো বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে উদযাপন করা যেতে পারে এবং প্রয়োজনে সীমিত সরকারি সহায়তা দেওয়া যাবে। অন্যদিকে ‘গ’ শ্রেণির দিবসগুলো সাধারণত সীমিত পরিসরে পালনের কথা বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দিবসগুলোর তালিকা নতুনভাবে সাজানোর মাধ্যমে সরকারি অনুষ্ঠান ও কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিবস তালিকায় না থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

শেয়ার করুন:

মেয়েদের ডিগ্রী ও স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষা ফ্রি ঘোষনা করলেন প্রধানমন্ত্রী

মেয়েদের ডিগ্রী ও স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষা ফ্রি ঘোষনা করলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ এ ৩:৫৬ PM

দেশের নারী শিক্ষার প্রসারে এবং উচ্চশিক্ষার হার বৃদ্ধিতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী। আজ সোমবার সকালে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী স্নাতক ও ডিগ্রী পর্যায়ে অধ্যয়নরত সকল ছাত্রীর শিক্ষা অবৈতনিক বা ফ্রি করার ঘোষণা দেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে পড়ুয়া ছাত্রীরা এখন থেকে টিউশন ফি ছাড়াই পড়াশোনা করার সুযোগ পাবেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষাকে মেট্রিক (এসএসসি) পর্যন্ত এবং ২০০১-২০০৬ মেয়াদে ইন্টারমিডিয়েট (এইচএসসি) পর্যন্ত ফ্রি করেছিলেন। বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপ সেই অসমাপ্ত কাজ পূরণের একটি ধারাবাহিক প্রয়াস। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার চায় নারীরা যেন উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ পায়। আর্থিক প্রতিবন্ধকতা যেন তাদের শিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারেক রহমান বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে যশোরের জনসভায় বলেছিলাম, ইনশাআল্লাহ জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে আমরা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছিলাম। সরকার পরিচালনার সুযোগ পেয়ে বিএনপি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ শুরু করেছে। বিএনপি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার দল। আমরা যা বলি তাই করি। আমরা কথা মালার রাজনীতি করি না।

শেয়ার করুন:

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় তেলবাজারে অস্থিরতা, বাড়ছে উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় তেলবাজারে অস্থিরতা, বাড়ছে উদ্বেগ
জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার। ছবি : লুসিও মেদেইরোস
অনলাইন ডেস্কবুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬ এ ৫:২৪ PM

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কারণে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। অনেক বিশ্লেষকই সতর্ক করছেন, চরম পরিস্থিতিতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে এই সম্ভাবনা কতটা বাস্তব—তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।

বর্তমানে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছু বড় ধরনের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল বিশ্ববাজারে আসে এবং এর একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথটিতে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা সরাসরি বৈশ্বিক সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে এবং খুব দ্রুত দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

একই সঙ্গে কৌশলগত তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে সংরক্ষিত তেল মজুত প্রায় ৯০ দিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হলেও বাস্তবে তা দ্রুত ও সমন্বিতভাবে বাজারে ছাড়ার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অতীতে বড় সংকটের সময় এই মজুত ব্যবহার করেও দামের ঊর্ধ্বগতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।

অন্যদিকে, পরিশোধন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও বাজারে চাপ বাড়াচ্ছে। অনেক রিফাইনারি ইতোমধ্যেই সর্বোচ্চ সক্ষমতায় কাজ করছে, ফলে অতিরিক্ত কাঁচা তেল সরবরাহ হলেও তা দ্রুত ব্যবহারযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর করা সম্ভব হয় না। এতে ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানির দাম আরও বেশি অস্থির হয়ে ওঠে।

বিশ্ব আর্থিক বাজারও তেলের দামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বড় বিনিয়োগকারী গোষ্ঠী ও হেজ ফান্ডগুলোর কার্যক্রম অনেক সময় বাস্তব চাহিদা-সরবরাহের বাইরে গিয়ে দামের ওঠানামা বাড়িয়ে দেয়। অনিশ্চয়তার সময়ে বাজারে অতিরিক্ত ঝুঁকি প্রিমিয়াম যুক্ত হয়, যা দামের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাতে হলে একাধিক বড় ঘটনা একসঙ্গে ঘটতে হবে—যেমন বড় আকারের যুদ্ধ, গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া, অথবা প্রধান উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া। এসব ঘটনার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া না গেলেও তা এখনো তুলনামূলকভাবে কম।

অন্যদিকে, তেলের দাম বেশি বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই চাহিদা কমতে শুরু করে। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো খরচ কমানোর চেষ্টা করে, বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং সাধারণ মানুষও ব্যবহার কমিয়ে দেয়। এই প্রক্রিয়াকে ‘ডিমান্ড ডেস্ট্রাকশন’ বলা হয়, যা শেষ পর্যন্ত দামের ঊর্ধ্বগতি থামাতে ভূমিকা রাখে।

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, তেলের দাম যদি দীর্ঘ সময় ১৩০ ডলারের ওপরে থাকে, তাহলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে আবার চাহিদা কমে গিয়ে তেলের দাম স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষণ বলছে, তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছানো সম্ভব হলেও তা নির্ভর করছে চরম পরিস্থিতির ওপর। বর্তমান বাস্তবতায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত। তবে বৈশ্বিক উত্তেজনা ও সরবরাহ ঝুঁকি অব্যাহত থাকলে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন:

আরও পড়ুন

মন্তব্য (0)

দিবসের নতুন তালিকা: থাকল ৫ আগস্ট ও ১৬ জুলাই, ফিরল না ৭ মার্চ ও ১৫ আগস্ট