রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরু, উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরু, উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (ছবি: সংগৃহীত)
নিজস্ব প্রতিবেদকমঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ এ ১:৩৭ PM

বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে রিঅ্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম, জ্বালানি খাতের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এটি প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ধাপ, যা সফলভাবে সম্পন্ন হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথ আরও পরিষ্কার হবে।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় নির্মাণাধীন এই প্রকল্পটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় নির্মিত এই কেন্দ্রের প্রতিটি ইউনিট থেকে প্রায় ১২০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়ায় রিঅ্যাক্টরের ভেতরে বিশেষভাবে প্রস্তুত পারমাণবিক জ্বালানি (ফুয়েল অ্যাসেম্বলি) স্থাপন করা হয়। এই ধাপে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার নির্দেশনা ও তদারকি অনুসরণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা, বিকিরণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিগত নির্ভুলতা নিশ্চিত করেই ধাপে ধাপে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, এই ধাপ শেষ হওয়ার পর রিঅ্যাক্টরের ‘কোল্ড টেস্ট’, ‘হট টেস্ট’ এবং ধাপে ধাপে শক্তি বৃদ্ধি পরীক্ষার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে এগোবে কেন্দ্রটি। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শিগগিরই শুরু হতে পারে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, যা দেশের শিল্প, উৎপাদন এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে এটি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে।

তবে পারমাণবিক প্রকল্প হওয়ায় নিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একাধিক স্তরের সুরক্ষা ব্যবস্থা, জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা এবং প্রশিক্ষিত জনবল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রূপপুর প্রকল্প শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেই নয়, বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের ক্ষেত্রেও একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।

শেয়ার করুন:

এবার ঈদে কোরবানি হচ্ছে না বহুল আলোচিত সেই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

এবার ঈদে কোরবানি হচ্ছে না বহুল আলোচিত সেই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’
ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬ এ ৪:৩৮ PM

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেল আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির জন্য বিক্রি হওয়া বহুল আলোচিত অ্যালবিনো জাতের মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ আর কোরবানি হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনায় সেটিকে কোরবানি না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মহিষটিকে কেরানীগঞ্জের জিনজিরার ইসলামপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করে কেরানীগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে বিকেল ৪টায় কেরানীগঞ্জ জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) মহিষের মালিক মনিরুজ্জামানের সাথে কথা বলেন। তিনি জানান, উচ্চ মহলের নির্দেশ থাকায় মহিষটি কোরবানি করা যাবে না এবং এটিকে আপাতত থানায় নিয়ে যেতে বলা হয়েছে।পরবর্তীতে মহিষটিকে সেখান থেকে থানায় স্থানান্তরিত করা হয়। এ প্রসঙ্গে মহিষের মালিক মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, রোজার ঈদের ১০ দিন পর তিনি মহিষটি কিনেছিলেন এবং তিন দিন আগে সেটিকে খামার থেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। আজ বিকেলে থানা থেকে লোকজন এসে জানায় যে সরকার মহিষটি নিয়ে নেবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে তারা সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে মহিষটি হস্তান্তর করেছেন। মহিষের বিনিময়ে কী দেওয়া হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার তাদের মহিষের ন্যায্য মূল্য পরিশোধ করবে অথবা কোরবানির জন্য বিকল্প হিসেবে গরু দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুছ জানান, মহিষটিকে মালিকের বাসা থেকে থানায় ফেরত আনা হয়েছে। এটি একটি বিরল প্রজাতির প্রাণী হওয়ায় এটিকে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার সময় মনিরুজ্জামানের ছেলে মাহির মুঠোফোনে জানান, পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা মহিষটি থানায় নিয়ে এসেছেন এবং বর্তমানে তারা সেখানেই অবস্থান করছেন। সরকার এই মহিষটি নিয়ে কী করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মাহির বলেন, "সরকার এটি দিয়ে কী করবে তা তারাই ভালো জানে। আমাদের থানায় পৌঁছে দিতে বলা হয়েছিল, আমরা তা করেছি। বাকি সিদ্ধান্ত সরকারের।"ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো চুল আর চোখের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাতারাতি ভাইরাল হয়েছিল রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মের একটি অ্যালবিনো জাতের মহিষ। নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ার এই মহিষটির নামও দেওয়া হয়েছিল ‘ট্রাম্প’। কিন্তু থানায় নিয়ে যাওয়ার পর তাকে আর আগের মতো দেখার সুযোগ মিলছে না দর্শনার্থীদের।

যেমনটা ঘটেছিল রিমা আক্তারের সাথে। মোবাইল স্ক্রিনে মহিষটিকে দেখে সরাসরি দেখার তীব্র আগ্রহ নিয়ে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু এসে জানতে পারেন, তাঁর পৌঁছানোর ঠিক কিছুক্ষণ আগেই মহিষটিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অগুণতো দর্শনার্থী তাঁর মতোই এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

১২ মে প্রথম আলোতে মহিষটিকে নিয়ে খবর প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। দেশীয় সংবাদমাধ্যমের গণ্ডি পেরিয়ে এটি দ্রুত আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নজর কাড়ে। এএফপি, রয়টার্সসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সব গণমাধ্যমে জায়গা করে নেয় ভাইরাল এই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। ফলে স্থানীয় একটি ফার্মের মহিষ থেকে এটি হয়ে ওঠে বিশ্বব্যাপী আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

শেয়ার করুন:

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ
মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ছবি -সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬ এ ৪:২১ PM

সরকার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনার হিসেবে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে দায়িত্ব দিয়েছে। আজ রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে ডিএমপি কমিশনার পদে বদলি করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারিকৃত এই নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার হওয়ার আগে, চলতি বছরের ১৬ মার্চ তিনি সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে নিয়োগ পান এবং ২৫ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএস ক্যাডারের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে কর্মজীবন শুরু করেন।

সিআইডিতে আসার আগে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন ডিরেক্টরেটের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশসহ কুষ্টিয়া, ভোলা ও শেরপুর জেলায় পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।

পেশাগত দক্ষতার অংশ হিসেবে তিনি সুদানের দারফুরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও (UNAMID) একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

শেয়ার করুন: