ঢাকা মহানগরসহ দেশের ছয়টি এলাকায় সশস্ত্র বাহিনীকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়েছে সরকার।

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে নাশকতার আশঙ্কায় ঢাকাসহ দেশের ৩টি মহানগর এবং ৩টি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সাথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব এলাকায় নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের আগামী ৯ দিনের জন্য বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (২২ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপন ও চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। আজ সোমবার থেকেই এই আদেশ কার্যকর হয়েছে, যা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
যেসব এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন:
বিশেষ এই আদেশ কার্যকর হবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর এবং নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায়। এসব এলাকায় সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে (ডেপুটেশনে) নিয়োজিত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তারাও এই ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা ভোগ করবেন।
মন্ত্রণালয়ের চিঠি ও নাশকতার আশঙ্কা:
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এর মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
২৩ জুন মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, এই দিনটিকে কেন্দ্র করে দলটি বেআইনিভাবে মিছিল বা শোডাউন করার চেষ্টা করতে পারে। তাই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ২২ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়।
কর্মকর্তারা যেসব আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন:
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধির (১৮৯৮) নির্দিষ্ট কিছু ধারা (যেমন: ধারা ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ এবং ১৪২) অনুযায়ী অপরাধ আমলে নিতে পারবেন। এর ফলে তারা বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করা, অপরাধীকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।









