দিনাজপুরে প্রধানমন্ত্রীর সফর, খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন

দিনাজপুর সফরে গিয়ে দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। পরে সড়কপথে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের এই কর্মসূচির সূচনা করেন।
সরকারি সূত্র জানায়, দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া এলাকায় প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করা হয়। একই সময় ভার্চুয়াল সংযোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় একাধিক খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনরুদ্ধার করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা এবং কৃষকদের জন্য সেচব্যবস্থা সহজ করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
সফরসূচি অনুযায়ী, সোমবার সকাল প্রায় ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। পরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সড়কপথে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় যান তিনি। সেখানে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত হন।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদী-নালা, খাল ও জলাধার পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে বিভিন্ন জেলায় খাল পুনঃখননের কাজ শুরু করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এতে কৃষি সেচব্যবস্থা উন্নত হবে, পানি সংরক্ষণ সহজ হবে এবং বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা কমাতে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাল ও জলাধার পুনরুদ্ধার করা গেলে কৃষকরা সারা বছর সেচ সুবিধা পাবেন এবং কৃষি উৎপাদন বাড়বে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পানি সংরক্ষণও সহজ হবে।
খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনের পর দিনাজপুর শহরে একটি সুধী সমাবেশে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এছাড়া সফরের অংশ হিসেবে তিনি পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে আত্মীয়দের কবর জিয়ারত করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বহু খাল ও জলাধার দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় থাকায় পানি প্রবাহ কমে গেছে এবং অনেক জায়গায় সেচব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব খাল পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার করা গেলে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
দিনাজপুর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিকে তাই সরকারের পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের কৃষি, পানি সংরক্ষণ এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।








