Bartalive24
সর্বশেষবাংলাদেশরাজনীতিঅর্থনীতিবিশ্বখেলাপ্রযুক্তিবিনোদনস্বাস্থ্যলাইফস্টাইলমতামত

দিনাজপুরে প্রধানমন্ত্রীর সফর, খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন

দিনাজপুরে প্রধানমন্ত্রীর সফর, খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্কসোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬ এ ৬:২১ AM

দিনাজপুর সফরে গিয়ে দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। পরে সড়কপথে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের এই কর্মসূচির সূচনা করেন।

সরকারি সূত্র জানায়, দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া এলাকায় প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করা হয়। একই সময় ভার্চুয়াল সংযোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় একাধিক খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনরুদ্ধার করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা এবং কৃষকদের জন্য সেচব্যবস্থা সহজ করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

সফরসূচি অনুযায়ী, সোমবার সকাল প্রায় ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। পরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সড়কপথে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় যান তিনি। সেখানে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত হন।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদী-নালা, খাল ও জলাধার পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে বিভিন্ন জেলায় খাল পুনঃখননের কাজ শুরু করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এতে কৃষি সেচব্যবস্থা উন্নত হবে, পানি সংরক্ষণ সহজ হবে এবং বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা কমাতে সহায়তা করবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাল ও জলাধার পুনরুদ্ধার করা গেলে কৃষকরা সারা বছর সেচ সুবিধা পাবেন এবং কৃষি উৎপাদন বাড়বে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পানি সংরক্ষণও সহজ হবে।

খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনের পর দিনাজপুর শহরে একটি সুধী সমাবেশে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এছাড়া সফরের অংশ হিসেবে তিনি পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে আত্মীয়দের কবর জিয়ারত করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বহু খাল ও জলাধার দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় থাকায় পানি প্রবাহ কমে গেছে এবং অনেক জায়গায় সেচব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব খাল পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার করা গেলে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

দিনাজপুর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিকে তাই সরকারের পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের কৃষি, পানি সংরক্ষণ এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শেয়ার করুন:

পিরোজপুরের নেছারাবাদে মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

পিরোজপুরের নেছারাবাদে মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক, পিরোজপুররবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬ এ ৫:৫৮ AM

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় গলাকাটা ও মাথাবিহীন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। নিহত ব্যক্তি গোপাল চন্দ্র দাস, যার বাড়ি বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের গণপাড়া গ্রামে। শনিবার (১৪ মার্চ) নিহতের স্বজনেরা মরদেহ শনাক্ত করেন।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠি এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মামুন মিয়ার ইটভাটার দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে সন্ধ্যা নদীর তীর থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মো. মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে এবং ঘটনাটি ঘিরে তদন্ত চলছে। পুলিশ ইতোমধ্যে একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল সংলগ্ন সন্ধ্যা নদী ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে শনিবার রাত পর্যন্ত নিহতের বিচ্ছিন্ন মাথার সন্ধান মেলেনি।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় সম্রাট ও রাজু নামের দুজনকে সন্দেহ করা হচ্ছে। যদিও তদন্তের স্বার্থে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাই সন্দেহভাজনদের পরিচয় নিয়ে সতর্ক অবস্থান নেওয়াই সমীচীন।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিহতকে অন্য কোনো স্থান থেকে এনে নির্জন এলাকায় হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এরপর মরদেহটি সন্ধ্যা নদীর পাড়ে ফেলে রাখা হয়। তবে হত্যার কারণ, ঘটনার প্রকৃত সময় এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং আলামত সংগ্রহের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

শেয়ার করুন:

পানিতে নেমে আলু তুলছেন কৃষকেরা, কেজিতে লোকসান ৬-৭ টাকা !

পানিতে নেমে আলু তুলছেন কৃষকেরা, কেজিতে লোকসান ৬-৭ টাকা  !
অকালবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় উত্তরাঞ্চলে পানির মধ্যে নেমে আলু তুলছেন কৃষকেরা । ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদকরবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬ এ ৫:৪৪ AM

অকালবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বাজারে দরপতনের ত্রিমুখী চাপে উত্তরাঞ্চলের আলুচাষিরা এবার চরম সংকটে পড়েছেন। মাঠে জমে থাকা পানির মধ্যে নেমে কোথাও আলু তুলতে হচ্ছে, কোথাও আবার জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাচ্ছে আলুখেত। এর মধ্যেই উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর অনেক নিচে নেমে আসায় কৃষকদের লোকসান আরও বেড়েছে।

সাম্প্রতিক অকালবৃষ্টি ও কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিতে রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন আলুচাষপ্রধান জেলায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবি ও ভিডিওতেও সেই বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে। কোথাও কৃষকদের জমে থাকা পানির মধ্যে নেমে আলু তুলতে দেখা গেছে, আবার কোথাও জলাবদ্ধতায় আলুখেত ডুবে থাকার দৃশ্য সামনে এসেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, এই বৃষ্টি শুধু মাঠের ফসলের ক্ষতির ঝুঁকিই বাড়ায়নি, আলু তোলা, শুকানো ও সংরক্ষণের কাজও কঠিন করে তুলেছে।

কৃষকেরা বলছেন, চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়ছে প্রায় ১৬ টাকা। কিন্তু বাজারে সেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৯ থেকে ১০ টাকায়। ফলে প্রতি কেজিতে গড়ে ৬ থেকে ৭ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। বীজ, সার, সেচ, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় উৎপাদন খরচ আগের বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এ মৌসুমে আলুর উৎপাদন ভালো হলেও তা কৃষকদের জন্য স্বস্তি নিয়ে আসেনি। বরং উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে এবং অনেক এলাকায় দাম উৎপাদন খরচের সমান বা তারও নিচে নেমে গেছে। এতে আগে থেকেই লোকসানে থাকা কৃষকেরা আরও চাপে পড়েছেন।

এর মধ্যে নতুন করে যোগ হয়েছে অকালবৃষ্টির ধাক্কা। যেসব কৃষক এখনো পুরোপুরি আলু তুলতে পারেননি, তাঁরা দ্রুত ফসল ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। কারণ, মাঠে ভেজা অবস্থায় আলু বেশিক্ষণ পড়ে থাকলে পচন ধরে, দাগ পড়ে এবং মান নষ্ট হয়ে যায়। একই সঙ্গে তোলার পর খোলা জায়গায় শুকাতে রাখা আলুও বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, আলুচাষিরা এবার একসঙ্গে কয়েকটি চাপের মুখে পড়েছেন—বাড়তি উৎপাদন ব্যয়, বাজারে দরপতন, হিমাগারে সংরক্ষণ ব্যয়ের চাপ এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার ক্ষতি। এই পরিস্থিতিতে অনেক কৃষকের জন্য এ মৌসুমে লাভের আশা প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়েছেন, বৃষ্টির পর জমি থেকে দ্রুত পানি সরিয়ে ফেলতে হবে, তোলা আলু শুকনো ও বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে রাখতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত আলু আলাদা করে বাছাই করতে হবে। তা না হলে সংরক্ষণের সময় পচন আরও বাড়তে পারে।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত বাজারে হস্তক্ষেপ, হিমাগার ভাড়া যৌক্তিক রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ সহায়তা দেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। টানা লোকসানের কারণে আগামী মৌসুমে আলুর আবাদ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে, যা উত্তরাঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

শেয়ার করুন:

আরও পড়ুন

মন্তব্য (0)

দিনাজপুরে প্রধানমন্ত্রীর সফর, খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন