রেকর্ড বৃষ্টিতে ভাসছে চট্টগ্রাম: ৩ জেলায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, ট্রেন চলাচল বিপর্যস্ত

টানা তিন দিন ধরে চলা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরী। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—সবই এখন পানির নিচে।নজিরবিহীন এই জলাবদ্ধতায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পুরো নগরী, যার জেরে চট্টগ্রামসহ তিন জেলার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রবল সক্রিয়তায় চট্টগ্রামে স্মরণকালের রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে। গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া ও ভূপ্রাকৃতিক কেন্দ্র চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান জানান, মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টির তীব্রতা অনেক বেড়েছে। নিম্নচাপটি ভারতের ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার দিকে সরে গেলেও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে আগামী অন্তত এক সপ্তাহ এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।ভারী বৃষ্টিতে নগরের আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, বাকলিয়া, কাপাসগোলা, চান্দগাঁও, হালিশহর ও পতেঙ্গাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বহু ঘরবাড়ি ও দোকানে পানি ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র ও গৃহস্থালির মালামালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহদ্দারহাটের বাসিন্দা আহমেদ রেজা জানান, সকালে হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ায় তড়িঘড়ি করে আসবাবপত্র সরাতে হয়েছে, বৃষ্টির কারণে ঘর থেকেও বের হওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে অতিবর্ষণের জেরে নগরীতে দেয়াল ধসে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও চারজন। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে গাছ ভেঙে পড়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে এবং গ্রামীণ উপজেলাগুলোতে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।নজিরবিহীন এই জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে রেল যোগাযোগেও। নগরের মুরাদপুর এলাকায় রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ১ হাজার যাত্রী নিয়ে আটকে পড়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’। অন্যদিকে রেললাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি দোহাজারী স্টেশনে আটকা পড়ে।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার জানান, রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় জান আলী হাট ও লোহাগাড়ায় ট্রেন আটকে যায়। পরবর্তীতে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে পর্যটক এক্সপ্রেসের পেছনে আরেকটি ইঞ্জিন লাগিয়ে ট্রেনটিকে চট্টগ্রামে ফিরিয়ে আনা হয়। রেল চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।
ভারী বর্ষণ ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন তিন জেলার আজকের (বুধবার, ৮ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো—চট্টগ্রাম, রাঙামাটি এবং কক্সবাজার। স্থগিত হওয়া এই পরীক্ষাগুলোর নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
তবে চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে থাকা অন্য দুই জেলা—বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে পরীক্ষা যথারীতি চলবে। পাশাপাশি দেশের বাকি সব শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাও পূর্বঘোষিত রুটিন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।









