আবু সাঈদ হত্যা মামলা: সাজাপ্রাপ্ত বেরোবির সাবেক ভিসি গ্রেফতার

আবু সাঈদ হত্যা মামলা: সাজাপ্রাপ্ত বেরোবির সাবেক ভিসি গ্রেফতার
বেরোবির সাবেক উপাচার্য ছবি -সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬ এ ৪:৫৩ PM

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার সলিমুল্লাহ রোডের একটি বাসা থেকে ড. হাসিবুর রশীদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিলেন, যার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল বহুল আলোচিত এই রায় ঘোষণা করেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় ২ পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন— পুলিশের ৮ জন সদস্য, বেরোবির তৎকালীন উপাচার্য (ভিসি) হাসিবুর রশীদসহ ৪ জন শিক্ষক, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ৯ জন নেতা, ১ জন চিকিৎসক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

সেদিন ছিল ১৬ জুলাই, ২০২৪। দুপুর তখন আনুমানিক ২টা। রংপুরের খামার মোড় থেকে ধেয়ে আসা শিক্ষার্থীদের একটি বিশাল মিছিল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর ফটকের সামনে এসে অবস্থান নেয়। স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে চারপাশ। শিক্ষার্থীরা যখন ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন, তখনই পুলিশ তাদের পথ রুদ্ধ করে দাঁড়ায়, যার সূত্র ধরে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। পরিস্থিতি দমনে পুলিশ নির্বিচারে প্রায় ২০০ রাউন্ড গুলি ও রাবার বুলেট ছোড়ে। আর সেই ছররা ও রাবার বুলেটের আঘাতে লুটিয়ে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ, যা পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের স্ফুলিঙ্গ হয়ে জ্বলে ওঠে।

শেয়ার করুন:

ঢাকা মহানগরসহ দেশের ছয়টি এলাকায় সশস্ত্র বাহিনীকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়েছে সরকার।

ঢাকা মহানগরসহ দেশের ছয়টি এলাকায় সশস্ত্র বাহিনীকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়েছে সরকার।
ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ এ ২:৪৩ PM

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে নাশকতার আশঙ্কায় ঢাকাসহ দেশের ৩টি মহানগর এবং ৩টি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সাথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব এলাকায় নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের আগামী ৯ দিনের জন্য বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার (২২ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপন ও চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। আজ সোমবার থেকেই এই আদেশ কার্যকর হয়েছে, যা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

যেসব এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন:

বিশেষ এই আদেশ কার্যকর হবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর এবং নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায়। এসব এলাকায় সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে (ডেপুটেশনে) নিয়োজিত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তারাও এই ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা ভোগ করবেন।

মন্ত্রণালয়ের চিঠি ও নাশকতার আশঙ্কা:

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এর মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

২৩ জুন মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, এই দিনটিকে কেন্দ্র করে দলটি বেআইনিভাবে মিছিল বা শোডাউন করার চেষ্টা করতে পারে। তাই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ২২ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়।

কর্মকর্তারা যেসব আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন:

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধির (১৮৯৮) নির্দিষ্ট কিছু ধারা (যেমন: ধারা ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ এবং ১৪২) অনুযায়ী অপরাধ আমলে নিতে পারবেন। এর ফলে তারা বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করা, অপরাধীকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

শেয়ার করুন:

মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী পেলেন রাজকীয় লাল গালিচা সংবর্ধনা

মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী পেলেন রাজকীয় লাল গালিচা সংবর্ধনা
ছবি -সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬ এ ৪:০৯ PM

রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়ায় এটিই তাঁর প্রথম সফর।

আজ রোববার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের বিশেষ ভিভিআইপি ফ্লাইটটি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের 'বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্স' টার্মিনালে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে পৌঁছালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানে মালয়েশিয়া সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় 'গার্ড অব অনার' প্রদর্শন করে। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

এক্সক্লুসিভ ভিভিআইপি টার্মিনালে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিনীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মালয়েশিয়ার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তাঁর সহধর্মিনী। এ সময় মাইসা নুর আইশা নামের এক শিশু জুবাইদা রহমানের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং ডেপুটি হাইকমিশনার মিস সাহানারা মনিকা।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে তাঁর অবস্থানকালীন হোটেল পর্যন্ত ৫০ মিনিটের পুরো সড়কপথ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকায় সাজানো হয়। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে কুয়ালালামপুরের পাঁচতারকা ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সফরকালে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিনী ও সফরসঙ্গীরা এই হোটেলেই অবস্থান করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে তাঁর সাথে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা একেএম শামসুল ইসলাম প্রমুখ। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের লক্ষে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন: