বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী, চাপে বাংলাদেশের বাজার

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ওপেকভুক্ত দেশগুলোর উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্তের কারণে গত সপ্তাহে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১০৮ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। দেশে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ইতোমধ্যে বাড়ানোর চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলে ভর্তুকি বাবদ প্রায় ৮ থেকে ১০ টাকা লোকসান গুনছে।
পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ইতোমধ্যে পণ্য পরিবহনের ভাড়া অনানুষ্ঠানিকভাবে বেড়েছে, যার প্রভাবে নিত্যপণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী।
অর্থনীতিবিদ ড. রেজাউল করিম বলেন, "বিশ্ববাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চমাত্রায় থাকলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর বাড়তি চাপ পড়বে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে যাবে।"
সরকার আপাতত জ্বালানি তেলের মূল্য অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে থাকলেও শিল্প মহলের ধারণা, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে দাম সমন্বয় অনিবার্য হয়ে পড়তে পারে।
এদিকে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সৌরশক্তি ও এলএনজির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদে এই বিকল্পগুলো জ্বালানি সংকট পুরোপুরি মেটাতে সক্ষম হবে না।
