বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের ওপর চলমান সহিংসতা, ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইউনিসেফ তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে

বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের ওপর চলমান সহিংসতা, ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইউনিসেফ তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে
ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬ এ ৪:২৬ PM

দেশে সম্প্রতি শিশু ও নারীদের ওপর বর্বর সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। সংস্থাটির মতে, শিশুরা যে জায়গাগুলোতে নিরাপদে থাকার কথা, সেখানেই এখন নির্মমতার শিকার হচ্ছে। শুক্রবার ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এক বিবৃতিতে জানান, শিশুদের ওপর চলমান এই পাশবিকতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

রানা ফ্লাওয়ার্স তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের ওপর যৌন ও পাশবিক নির্যাতন আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই পরিস্থিতি দেশজুড়ে শিশু এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার জরুরি প্রয়োজনীয়তা মনে করিয়ে দেয়। তিনি অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতির অবসান দাবি করেন এবং একই সাথে প্রতিরোধ ব্যবস্থা, সহিংসতা রিপোর্টিং, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, শিশু-বান্ধব পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থা এবং সামাজিক সেবা খাতের ঘাটতিগুলো দ্রুত দূর করার তাগিদ দেন।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সমাজের নীরবতার সুযোগেই সহিংসতা ডালপালা মেলে। তাই সহিংসতা, নির্যাতন বা শোষণের ঘটনা ঘটলে তা চেপে না রেখে অবিলম্বে শিশু হেল্পলাইন ১০৯৮-সহ অন্যান্য সুরক্ষা সেবার মাধ্যমে রিপোর্ট করার জন্য ইউনিসেফের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই বিবৃতিতে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আত্মমর্যাদা রক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের পরিচয় কিংবা কোনো ছবি-ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এক ধরনের মানসিক পুনর্নির্যাতন। যারা এই ধরণের কনটেন্ট শেয়ার বা রি-শেয়ার করছেন, তারা মূলত ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মানসিক বেদনা ও ট্রমাকে আরও গভীর করে তুলছেন।নারী ও শিশুদের সামগ্রিক মানসিক ও সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন ইউনিসেফের প্রতিনিধি। এর পাশাপাশি তিনি স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মক্ষেত্র, সামাজিক এলাকা এবং কেয়ার সেন্টারসমূহের প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধির তাগিদ দেন।ফলশ্রুতিতে, সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের প্রতি ভুক্তভোগীদের আইনি ও মানবিক অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট ছবি-ভিডিও প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিশেষে রানা ফ্লাওয়ার্স উল্লেখ করেন যে, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার কিংবা গণপরিসর—যেকোনো জায়গাতেই শিশুদের ছবি বা বিবরণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সামগ্রিক সুরক্ষা কাঠামো শক্তিশালী করতে তিনি সবাইকে সম্মিলিতভাবে আওয়াজ তোলার তাগিদ দেন।

শেয়ার করুন:

প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে আবার রাজপথে নামার হুঙ্কার ককরোচ পার্টির

প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে আবার রাজপথে নামার হুঙ্কার ককরোচ পার্টির
ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬ এ ৪:০৫ PM

আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার ও পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে পুনরায় কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে তরুণদের প্রতিবাদী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, টানা ৩৬ দিন আন্দোলনের পর যে তিনটি আশ্বাসের ভিত্তিতে সিজেপি তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছিল, তার অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া। তবে অভিযোগ উঠেছে, সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে শত শত শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবককে গ্রেফতার এবং নজরদারির মাধ্যমে হেনস্তা করা হচ্ছে। এরই প্রতিবাদে নতুন করে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

এদিকে সোমবার সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা এক এক্স বার্তার মাধ্যমে সমঝোতা ভঙ্গের তীব্র অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি বা পুলিশি ব্যবস্থা না নেওয়ার শর্ত থাকলেও বর্তমানে তা প্রকাশ্যে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে ইতোমধ্যেই শত শত শিক্ষার্থী গ্রেফতার হয়েছেন এবং দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতে শিক্ষার্থীদের নজরদারির নামে হয়রানি করা হচ্ছে। তা ছাড়া, দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তাকারী স্বেচ্ছাসেবকদের আটকের ঘটনা তুলে ধরে একে চুক্তির শতভাগ বরখেলাপ বলে চিহ্নিত করেন তিনি।

আরো বলেন না মানলে যন্তর মন্তরে আবারও বড় আন্দোলন

আন্দোলনকারীদের নামে হওয়া সব এফআইআর বাতিল এবং আটককৃতদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এবং বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোর পুলিশ আর কোনো মামলা দেবে না—এই মর্মে লিখিত নিশ্চয়তা দিতে হবে। তা না হলে যন্তর মন্তরসহ পুরো দেশজুড়ে নতুন করে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসকে কেন্দ্র করে টানা ৩৬ দিনের উত্তাল আন্দোলনের চাপে গত ২৫ জুলাই পদত্যাগ করেন ভারতের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেই সময় সরকার কথা দিয়েছিল, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের রাজ্য সরকার রাজপথের বিক্ষোভ দমনে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। সম্প্রতি কলকাতায় সিজেপি সমর্থিত বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর ‘শিয়ালদহ-ডোরিনা ক্রসিং’ মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। ইট-পাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ এনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান এবং নতুন আইন প্রয়োগের ঘোষণা দেন। এ পর্যন্ত অন্তত ১৪ জনকে আটকের কথা জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ।

শেয়ার করুন:

ভারতের পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র

ভারতের পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র
ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬ এ ৩:৫৮ PM

শিক্ষার্থীদের জোরদার আন্দোলনের মুখে দেশের পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে উদ্যোগী হলো কেন্দ্র। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নব্য গঠিত এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকানিকে। রোববার সন্ধ্যায় সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই তথ্য জানান। সম্প্রতি ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা 'নিট'-এর প্রশ্ন ফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগে সারাদেশে ছাত্র-আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে, যার জেরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

টাস্কফোর্স দ্রুত পরীক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারের প্রস্তাব পাঠাবে। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, তাদের সুপারিশ অনুযায়ী আগামী পরীক্ষাগুলোতে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। মূলত পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য ও জালিয়াতিমুক্ত করতে সরকার প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপের দিকেই এগোচ্ছে।

শেয়ার করুন: