Bartalive24
সর্বশেষবাংলাদেশরাজনীতিঅর্থনীতিবিশ্বখেলাপ্রযুক্তিবিনোদনস্বাস্থ্যলাইফস্টাইলমতামত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হত্যার গুজব, ভিডিও বার্তায় দিলেন প্রতিক্রিয়া

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হত্যার গুজব, ভিডিও বার্তায় দিলেন প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বিবৃতিতে বক্তব্য দিচ্ছেন। ছবি: স্ক্রিনশট / এক্স
অনলাইন ডেস্কসোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬ এ ৬:৩৬ AM

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যার গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অনলাইন পোস্টে দাবি করা হয় যে তিনি হামলার শিকার হয়ে নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে এসব দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই।

গুজবের জবাবে নেতানিয়াহু একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন, যেখানে তাকে স্বাভাবিকভাবে একটি ক্যাফেতে বসে কফি পান করতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি জানান, তার মৃত্যু নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো খবর সত্য নয় এবং তিনি নিরাপদে আছেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর দ্রুতই তা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ইসরায়েল ও Iran-এর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর বিভিন্ন ধরনের গুজব ও অপপ্রচার দেখা যাচ্ছে।

এদিকে চলমান সংঘাতের কারণে ইসরায়েল ও Hamas-এর মধ্যে পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত রয়েছে। যুদ্ধ, জিম্মি সংকট এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপের মধ্যে নেতানিয়াহুর সরকারের ওপরও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।

ইতিহাসে ইসরায়েলের একজন প্রধানমন্ত্রী সত্যিই হত্যার শিকার হয়েছিলেন। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী Yitzhak Rabin তেলআবিবে এক সমাবেশ শেষে গুলিতে নিহত হন। ঘটনাটি ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সময়ে সংঘাত ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই যেকোনো তথ্য গ্রহণের আগে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তা যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

শেয়ার করুন:

যেভাবে পরিকল্পনা হয়েছিল খামেনেই হত্যার চক্রান্ত

যেভাবে পরিকল্পনা হয়েছিল খামেনেই হত্যার চক্রান্ত
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই তেহরানে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন। ৬ মার্চ, ২০২৩। (ছবি: এএফপি)
অনলাইন ডেস্কবুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬ এ ৭:০৫ AM

তিন দশকেরও বেশি সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর শনিবার সকালে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই।

১৯৮১ সাল থেকে দুটি পদে দেশ পরিচালনা করা এই নেতা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের অন্যতম মূল ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যে বিপ্লব ইরানের রাজতন্ত্রকে উৎখাত করেছিল। তিনি প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং পরে ১৯৮৯ সালে বিপ্লবী নেতা রুহুল্লাহ খোমেইনির মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ নেতার পদ গ্রহণ করেন।

সিআইএ কীভাবে ইসরায়েলকে তথ্য দিল?

শনিবার তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে (জিএমটি ০৬:১০) বিমান হামলা পরিচালিত হয়। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল মধ্য তেহরানের একটি স্থাপনা, যেখানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, রাষ্ট্রপতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় ও বাসভবন রয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমস বেনামি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ জানতে পেরেছিল যে শনিবার সকালে সেখানে খামেনেই এবং দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই তথ্য সিআইএ ইসরায়েলকে সরবরাহ করে, যা হামলার সময়সূচি এগিয়ে আনে।

সিবিএস নিউজও একজন বেনামি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নিশ্চিত করেছে যে সিআইএ খামেনেইর অবস্থানের তথ্য ইসরায়েলকে জানিয়েছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে লেখেন, খামেনেই মার্কিন গোয়েন্দা ও উন্নত ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে রক্ষা পাননি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় পরিচালিত এই অভিযানে তার পক্ষে কিছু করার ছিল না।

বিশ্লেষক রোজমেরি কেলানিক কানাডিয়ান সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসিকে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্য, ইসরায়েলি নেটওয়ার্ক এবং স্যাটেলাইট নজরদারির সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালনা করেছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, "আমরা ঠিক জানি সর্বোচ্চ নেতা কোথায় লুকিয়ে আছেন।" তখন ইসরায়েল খামেনেইকে হত্যার পরিকল্পনা উপস্থাপন করলেও ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, কারণ তিনি আঞ্চলিক সংঘাত বিস্তারের আশঙ্কা করেছিলেন।

হামলা কীভাবে পরিচালিত হলো?

যদিও রাতের অন্ধকারে হামলা পরিচালনার পরিকল্পনা ছিল — যেমনটি গত বছরের 'অপারেশন মিডনাইট হ্যামার'-এ করা হয়েছিল — তবে সিআইএর তথ্য পাওয়ার পর হামলার সময় এগিয়ে আনা হয়।

একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল একতরফাভাবে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে এই হামলা পরিচালনা করে। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মাইক টার্নার সিবিএসকে বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি খামেনেইকে লক্ষ্য করেনি।

শনিবার ভোর ৬টার দিকে (জিএমটি ০৪:০০) ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো ইসরায়েলের একটি ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। প্রায় দুই ঘণ্টার উড়ান শেষে তেহরানের ওই স্থাপনায় বোমা বর্ষণ করা হয়। বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান দূরপাল্লার ও অত্যন্ত নির্ভুল অস্ত্র বহন করছিল বলে জানা গেছে।

একই সময়ে মার্কিন সাইবার কমান্ড ইরানের যোগাযোগ ব্যবস্থা অকার্যকর করে দেয়। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন বলেন, "প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছিল ইউএস সাইবারকম ও স্পেসকম — ইরানের দেখার, যোগাযোগের এবং প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা ব্যাহত করা হয়েছিল।"

হামলার পরের পরিস্থিতি

ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে ৭৮৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি স্কুলে হামলায় অন্তত ১৬৫ জন ছাত্রী ও কর্মী নিহত হন।

রোববার ইরানি কর্তৃপক্ষ দেশ পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করেছে। এতে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি।

সূত্র: আল জাজিরা

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হত্যার গুজব, ভিডিও বার্তায় দিলেন প্রতিক্রিয়া