ইরানের তেল রপ্তানির কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী খুব অল্প সময়ের নোটিশেই ওই স্থাপনা লক্ষ্য করে অভিযান চালাতে সক্ষম।
ট্রাম্পের ভাষায়, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এবং দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনীর কাছে এমন সক্ষমতা রয়েছে যে চাইলে খুব দ্রুত ওই স্থাপনাকে অকার্যকর করে দেওয়া সম্ভব। তবে এখনো সে ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দেন, এই ধরনের কঠোর অবস্থান মূলত ইরানকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনার কৌশলের অংশ। তার মতে, তেহরান আলোচনা করতে আগ্রহ দেখালেও এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশিত শর্ত মেনে নেওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছায়নি।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার কোনো অনুরোধ করেনি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দেশটি নিজেদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় যতদিন প্রয়োজন ততদিন প্রতিরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) সম্প্রতি ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলার কথা জানিয়েছে। ওই অভিযানে একাধিক সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হলেও তেল রপ্তানির অবকাঠামো অক্ষত রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে বড় ধরনের হামলা হলে দেশটির অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক তেলের বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনা আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, সে দিকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে।









