প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে আবার রাজপথে নামার হুঙ্কার ককরোচ পার্টির

আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার ও পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে পুনরায় কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে তরুণদের প্রতিবাদী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, টানা ৩৬ দিন আন্দোলনের পর যে তিনটি আশ্বাসের ভিত্তিতে সিজেপি তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছিল, তার অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া। তবে অভিযোগ উঠেছে, সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে শত শত শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবককে গ্রেফতার এবং নজরদারির মাধ্যমে হেনস্তা করা হচ্ছে। এরই প্রতিবাদে নতুন করে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
এদিকে সোমবার সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা এক এক্স বার্তার মাধ্যমে সমঝোতা ভঙ্গের তীব্র অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি বা পুলিশি ব্যবস্থা না নেওয়ার শর্ত থাকলেও বর্তমানে তা প্রকাশ্যে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে ইতোমধ্যেই শত শত শিক্ষার্থী গ্রেফতার হয়েছেন এবং দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতে শিক্ষার্থীদের নজরদারির নামে হয়রানি করা হচ্ছে। তা ছাড়া, দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তাকারী স্বেচ্ছাসেবকদের আটকের ঘটনা তুলে ধরে একে চুক্তির শতভাগ বরখেলাপ বলে চিহ্নিত করেন তিনি।
আরো বলেন না মানলে যন্তর মন্তরে আবারও বড় আন্দোলন
আন্দোলনকারীদের নামে হওয়া সব এফআইআর বাতিল এবং আটককৃতদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এবং বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোর পুলিশ আর কোনো মামলা দেবে না—এই মর্মে লিখিত নিশ্চয়তা দিতে হবে। তা না হলে যন্তর মন্তরসহ পুরো দেশজুড়ে নতুন করে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসকে কেন্দ্র করে টানা ৩৬ দিনের উত্তাল আন্দোলনের চাপে গত ২৫ জুলাই পদত্যাগ করেন ভারতের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেই সময় সরকার কথা দিয়েছিল, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের রাজ্য সরকার রাজপথের বিক্ষোভ দমনে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। সম্প্রতি কলকাতায় সিজেপি সমর্থিত বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর ‘শিয়ালদহ-ডোরিনা ক্রসিং’ মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। ইট-পাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ এনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান এবং নতুন আইন প্রয়োগের ঘোষণা দেন। এ পর্যন্ত অন্তত ১৪ জনকে আটকের কথা জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ।










