ভারত থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি — ব্যয় হবে ১৪৬২ কোটি টাকা

জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারত থেকে ১,৮০,০০০ টন ডিজেল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এই ডিজেল ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেড (NRL) থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আমদানি করা হবে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই আমদানির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪.৬২ বিলিয়ন টাকা (প্রায় ১১৯.১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করবে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (BPC)।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
জানা গেছে, আমদানির অর্থের একটি অংশ বিপিসির নিজস্ব তহবিল থেকে প্রদান করা হবে এবং বাকি অর্থ ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, ভারত থেকে ডিজেল আমদানির এই ব্যবস্থা একটি ১৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির অংশ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এই চুক্তি স্বাক্ষর করেনি; এটি পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে সম্পন্ন হয়েছিল এবং বর্তমানে সেই চুক্তি অনুযায়ী আমদানি কার্যক্রম চলছে।
চুক্তি অনুযায়ী ডিজেলের প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ব্যারেল ৫.৫০ মার্কিন ডলার, আর মূল দাম ধরা হয়েছে প্রতি ব্যারেল ৮৩.২২ ডলার। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর ভিত্তি করে মূল দাম পরিবর্তিত হতে পারে।
ভারতের আসামে অবস্থিত নুমালীগড় রিফাইনারি থেকে প্রথমে ডিজেল পাঠানো হয় পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনালে। সেখান থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর ডিপোতে সরবরাহ করা হয়।
আগে এই জ্বালানি রেলপথে পরিবহন করা হলেও এখন বাংলাদেশ–ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন চালু হওয়ার ফলে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল পরিবহন করা হচ্ছে। ভারতের অর্থায়নে নির্মিত ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে চালু হয়, যা পরিবহন ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারত-বাংলাদেশ জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তির আওতায় প্রথম তিন বছরে বছরে ২ লাখ টন, পরবর্তী তিন বছরে ৩ লাখ টন, এরপর চার বছরে ৫ লাখ টন এবং পরে প্রতি বছর ১০ লাখ টন পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত জ্বালানি সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করবে।








