ভারত থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি — ব্যয় হবে ১৪৬২ কোটি টাকা

ভারত থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি — ব্যয় হবে ১৪৬২ কোটি টাকা
ছবি: বার্তালাইভ২৪
অনলাইন ডেস্কবুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬ এ ৫:৩৮ PM

জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারত থেকে ১,৮০,০০০ টন ডিজেল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এই ডিজেল ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেড (NRL) থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আমদানি করা হবে।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই আমদানির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪.৬২ বিলিয়ন টাকা (প্রায় ১১৯.১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করবে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (BPC)।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

জানা গেছে, আমদানির অর্থের একটি অংশ বিপিসির নিজস্ব তহবিল থেকে প্রদান করা হবে এবং বাকি অর্থ ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, ভারত থেকে ডিজেল আমদানির এই ব্যবস্থা একটি ১৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির অংশ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এই চুক্তি স্বাক্ষর করেনি; এটি পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে সম্পন্ন হয়েছিল এবং বর্তমানে সেই চুক্তি অনুযায়ী আমদানি কার্যক্রম চলছে।

চুক্তি অনুযায়ী ডিজেলের প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ব্যারেল ৫.৫০ মার্কিন ডলার, আর মূল দাম ধরা হয়েছে প্রতি ব্যারেল ৮৩.২২ ডলার। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর ভিত্তি করে মূল দাম পরিবর্তিত হতে পারে।

ভারতের আসামে অবস্থিত নুমালীগড় রিফাইনারি থেকে প্রথমে ডিজেল পাঠানো হয় পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনালে। সেখান থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর ডিপোতে সরবরাহ করা হয়।

আগে এই জ্বালানি রেলপথে পরিবহন করা হলেও এখন বাংলাদেশ–ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন চালু হওয়ার ফলে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল পরিবহন করা হচ্ছে। ভারতের অর্থায়নে নির্মিত ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে চালু হয়, যা পরিবহন ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারত-বাংলাদেশ জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তির আওতায় প্রথম তিন বছরে বছরে ২ লাখ টন, পরবর্তী তিন বছরে ৩ লাখ টন, এরপর চার বছরে ৫ লাখ টন এবং পরে প্রতি বছর ১০ লাখ টন পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত জ্বালানি সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করবে।

শেয়ার করুন:

রাজনৈতিক বিবেচনা নয়, সেনাবাহিনীতে পদোন্নতিতে মেধার গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজনৈতিক বিবেচনা নয়, সেনাবাহিনীতে পদোন্নতিতে মেধার গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬ এ ৩:৩৪ PM

সেনাবাহিনীতে পদোন্নতিতে রাজনৈতিক নয়, মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা সেনানিবাসে ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সেনাবাহিনীতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা বা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ গ্রহণযোগ্য নয়। একটি আধুনিক ও পেশাদার বাহিনী গঠনে মেধা, সততা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলী এবং পেশাগত যোগ্যতাই পদোন্নতির একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর পুনর্গঠনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। পাশাপাশি তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ, পার্বত্য অঞ্চলে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী সেনা সদস্য এবং সকল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকার জন্য সেনাপ্রধানসহ বাহিনীর সকলকে ধন্যবাদ দেন তিনি।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস)। সেনাপ্রধান তাঁর উপস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী ফটোসেশনে অংশ নেন এবং সেনাসদরের পরিদর্শক বইয়ে তাঁর মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন।

শেয়ার করুন:

দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে ভ্রমণ ভিসায় ভারত-বাংলাদেশ যাত্রী পারাপার শুরু হলো।

দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে ভ্রমণ ভিসায় ভারত-বাংলাদেশ যাত্রী পারাপার শুরু হলো।
ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬ এ ৩:১৫ PM

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে আজ থেকে ভ্রমণ (ট্যুরিস্ট) ভিসায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাধারণ যাত্রী পারাপার শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের পর্যটন, সংস্কৃতি এবং সাধারণ মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটলো।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে প্রথম একজন বাংলাদেশি যাত্রী ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। ইমিগ্রেশন ও বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আখাউড়া স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ জানায়, দুই বছর পর ভ্রমণ ভিসা নিয়ে পার হওয়া প্রথম বাংলাদেশি যাত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ফুলবাড়িয়ার বাসিন্দা। তিনি গত ২৮ জুন ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন এবং গতকাল ৮ জুলাই ৬ মাস মেয়াদি মাল্টিপল ভিসা হাতে পান।

আজ সকাল থেকেই আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে দুই দেশের যাত্রীদের আনাগোনা বাড়তে দেখা গেছে। ইমিগ্রেশন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুর রহিম জানান,

"বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রথম ভ্রমণ ভিসার যাত্রী ভারতে গেছেন। ভ্রমণ ভিসা পুরোদমে চালু হওয়ায় আগামী দিনগুলোতে যাত্রী পারাপার এবং ব্যস্ততা আরও অনেক বাড়বে।"

২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশে সব ধরনের ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল ভারত। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসা (মেডিকেল) ও ব্যবসায়িক (বিজনেস) ভিসা সীমিত পরিসরে চালু করা হলেও সাধারণ পর্যটকদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা দীর্ঘ দুই বছর ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।

সম্প্রতি ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুনরায় ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দেন। সেই অনুযায়ী, গত ২৮ জুন থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনাসহ দেশের প্রধান ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলোতে (IVAC) একযোগে ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। গতকাল ৮ জুলাই থেকে আবেদনকারীরা হাতে ভিসা পেতে শুরু করেন এবং আজ ৯ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।

শেয়ার করুন:
ভারত থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি — ব্যয় হবে ১৪৬২ কোটি টাকা